নতুন কারিকুলাম ২০২৩

নতুন কারিকুলাম ২০২৩ নিয়ে আজকের আলোচনা। বিশ্বের প্রতিটি দেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় রয়েছে কারিকুলাম। সেই কারিকুলাম অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করা হয়। শিক্ষা ব্যবস্থাটি যে নিয়ম-নীতির মাধ্যমে পরিচালনা করা হয় তাকে শিক্ষা নীতি  বলা হয়। এই শিক্ষা নিজের আওতায় থাকে শিক্ষাক্রম সহ নানা বিষয়। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য দীর্ঘ সময় লাগলো শিক্ষাক্রমের সময়ের জন্য বা শিক্ষার্থীদের স্বার্থে স্বল্প সময়ে পরিবর্তন বা সংযোজন করা হয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের শিক্ষা ক্রম এর কিছুটা পরিবর্তন করতে যাচ্ছে। এই শিক্ষাক্রম পূর্ণ বাস্তবায়ন করা পরিকল্পনা থাকলেও তা এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। এ বিষয়ে নিয়ে শিক্ষা বিষয়ক সকল ব্যবস্থা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। আজকে আমরা এ বিষয়ে সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা করব।

নতুন কারিকুলাম ২০২৩

শিখা বাংলাদেশের সকল নাগরিকের অধিকার। তাই শিক্ষা হবে সর্বজনীন। বিজয়ের ৫২ বছর পর এখনো পর্যন্ত আমরা পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা গ্রহণ ব্যবস্থা চালু করতে পারি নাই। যেখানে শিক্ষা হবে দেশপ্রেম ভিত্তিক ও সার্বজনীন বিজ্ঞানভিত্তিক সেই ধারায় শিক্ষার মাধ্যম মাতৃভাষা। সেই লক্ষ রেখে আমাদের দেশে আবারো শিক্ষা ব্যবস্থায় কিছুটা কারিকুলাম যোগ করা হয়েছে। এই কারিকুলাম সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য এখানে আলোচনা করা হলো।

২০২৩ সালের প্রথম দিকে দ্বিতীয় শ্রেণি, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের ধাপ চালু করা হয়। আশা করা যায় আমাদের ঘুনে ধরা এই সমাজের পরিবর্তন যদি হয় শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমেই হবে। কারিকুলামের মূল অংশটুকু পাঠকদের উদ্দেশ্যে উপস্থাপনের মাধ্যমে আলোচনার চেষ্টা করেছি। এখানে যে বিষয় সম্পর্কে বলা হয়েছে তা হলো নতুন কারিকুলামে শিক্ষা হবে আনন্দময়। এবং শিক্ষার্থীদের ওপর শেখার চাপ কমিয়ে পাঠ্যপুস্তকের বোঝা চাপ কমানো হলো মূল উদ্দেশ্য। গভীর শিখন এর গুরুত্ব দেওয়া হবে এই কারিকুলামে। বলা হচ্ছে মুখস্থ নির্ভরতা বদলে অভিজ্ঞ ও কার্যক্রম ভিত্তিক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা দৈহিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা ও অন্যান্য কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

শিক্ষা নীতিতে ২০২৩ সালের নতুন শিক্ষাক্রম

এই শিক্ষানীতি তে যে বিষয়টি বলা হয়েছে তা ২০২৩ সাল থেকে প্রথম দ্বিতীয়  ও ষষ্ঠ সপ্তম শ্রেণী বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ২০২৪ সাল নাগাদ তৃতীয় চতুর্থ অষ্টম ও নবম শ্রেণীতে বাস্তবায়ন করা হবে। ২০২৫ সাল পঞ্চম ও দশম শ্রেণীতে বাস্তবায়িত হবে এবং ২০২৬ সালে একাদশ শ্রেণীতে বাস্তবায়িত হবে। ২০২৭ সালে  শুধু দ্বাদশ শ্রেণীতে বাস্তবায়িত হবে। যেখানে প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা দুই বছর যা ২০২২ সাল পর্যন্ত এক বছর ছিল।

এছাড়াও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় থাকছে না কোন সরকার নির্ধারিত বই। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাই পড়াবেন তাদের নিজেদের মতো করে। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত কোনো পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এখানে পরীক্ষার পরিবর্তে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে শিখন। শ্রেণীতে শেখানোর ওপর ভিত্তি করে হবে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন।

এবং শিক্ষার্থীদের বই দেওয়া হচ্ছে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত তিনটি। চতুর্থ শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত অভিন্ন বিষয়ে আটটি বই দেওয়া হবে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত অভিন্ন মোট দশটি বই থাকবে। এই অনুযায়ী শিক্ষাক্রম এর কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

বাংলাদেশের শিক্ষা নীতিতে কারিকুলাম

গতানুগত পরীক্ষার বাইরে মূল্যায়ন হবে শিখন কালীন সমষ্টি উপায়ে। যেখানে উঠে যাচ্ছে পিইসি/ইবেদাই ও জে এস সি/জেডিসি নামের পাবলিক পরীক্ষা। তাই শিক্ষার্থীদের পড়াতে হবে না এই ঝামেলা। সেখান কালীন মূল্যায়নের ধরন হবে এসাইনমেন্টের উপর ভিত্তি করে। আরো থাকছে উপস্থাপনা যোগাযোগ এবং হাতে কলমে শিক্ষা। এবং চতুর্থ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত শিখন কালীন মূল্যায়ন প্রদান করা হবে। যেখানে ৬০ শতাংশ আর সমষ্টিক মূল্যায়ন হবে ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে নবম ও দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিখন কালীন মূল্যায়ন হবে ৫০ শতাংশ আর সমষ্টিক মূল্যায়ন দেওয়া হবে ৫০ শতাংশ। একাদশ শ্রেণীতে এটি নিয়ে যাওয়া হবে শিখন কালীন মূল্যায়ন ৩০ শতাংশ এবং সমষ্টিক মূল্যায়ন ৭০ শতাংশ। এসএসসি পরীক্ষা আর আগের মত নবম দশম শ্রেণীর বই মিলিয়ে হবে না। শুধুমাত্র দশম শ্রেণীর বই সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষার্থীদের প্রথম পাবলিক এই পরীক্ষা। অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়াও মাধ্যমিক পর্যায়ে থাকছে না কোন আলাদা তিনটি বিভাগ। বিভাগ পরিবর্তন করে একই পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে অধ্যায়ন করবে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে অনুষ্ঠিত হবে আলাদা দুইটি পরীক্ষা। এই দুইটি শ্রেণীর পরীক্ষার ফলাফলের সমন্বয়ে রেজাল্ট প্রদান করা হবে এইচ এস সি পরীক্ষার। তাই এই শিক্ষাক্রমে উঠে যাচ্ছে সৃজনশীল গ্রেড পদ্ধতি। শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন হবে তিনটি স্তরে।, প্রথম স্তর elementary level। details তার হবে মিডিল লেভেল। এবং তৃতীয় স্তর হবে এক্সপার্ট লেভেল।